Watch Insights

রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম ও সর্বোচ্চ দাম [বাংলাদেশ প্রাইস]

রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম ও সর্বোচ্চ দাম

রোলেক্স ঘড়ি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দামী লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নাম। বাংলাদেশের ঘড়ি প্রেমীদের কাছে রোলেক্স ব্র্যান্ডটি সব সময় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। অনেকেই জানতে চান রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম ও সর্বোচ্চ দাম আসলে বাংলাদেশে কত হতে পারে। আজকে আমরা রোলেক্স ঘড়ির দাম বাংলাদেশ এবং এর বিভিন্ন মডেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

আমরা চেষ্টা করবো, অরিজিনাল রোলেক্স ঘড়ির দাম সম্পর্কে আপনাদের সঠিক ধারণা দিতে। রোলেক্স শুধুমাত্র একটি ঘড়ি নয়, এটি আভিজাত্য এবং সাফল্যের একটি উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যারা লাক্সারি টাইমপিস পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই গাইডটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, বাংলাদেশে আসল রোলেক্স কত টাকা এবং এর বিস্তারিত।

রোলেক্স ব্র্যান্ড ইতিহাস ও এর জনপ্রিয়তা –

রোলেক্স ব্র্যান্ডটি তার জন্মলগ্ন থেকেই নিখুঁত সময় এবং আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। ১৯০৫ সালে হ্যান্স উইলসডর্ফ লন্ডনে এই বিখ্যাত কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন যা পরে সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়। রোলেক্স ব্র্যান্ড ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা সবসময়ই ঘড়ির জগতে নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এসেছে। রোলেক্সই প্রথম পানিরোধক ঘড়ি বা ওয়াটারপ্রুফ রিস্টওয়াচ তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।

এই ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলো তাদের সুইস মেকানিক্যাল ঘড়ি প্রযুক্তির জন্য সারা বিশ্বে অত্যন্ত সমাদৃত হয়ে থাকে। একটি রোলেক্স ঘড়ি তৈরি করতে প্রায় এক বছর বা তার বেশি সময় প্রয়োজন হয়। নিখুঁত কারুকাজ এবং দামী মেটেরিয়াল ব্যবহারের কারণে রোলেক্স কেন এত দামী তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশেও বিত্তবান এবং শৌখিন মানুষের কাছে রোলেক্স একটি স্বপ্নের নাম হিসেবে পরিচিত।

রোলেক্স ঘড়ি কেন এত দামী হয়?

রোলেক্স ঘড়ির তৈরির প্রক্রিয়াটি সাধারণ ঘড়ির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত জটিল হয়ে থাকে। এরা ঘড়ি তৈরিতে অত্যন্ত দামী গোল্ড ও প্লাটিনাম রোলেক্স ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে থাকে। রোলেক্স তাদের নিজস্ব ফাউন্ড্রিতে সোনা এবং প্ল্যাটিনাম গলিয়ে নিজস্ব ফর্মুলায় মেটাল তৈরি করে। এছাড়া রোলেক্স অটোমেটিক মুভমেন্ট সম্পূর্ণ হাতের স্পর্শে এবং রোবোটিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়।

প্রতিটি ঘড়ি বাজারে আসার আগে অত্যন্ত কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই কারণেই নতুন রোলেক্স ঘড়ির দাম সাধারণ ঘড়ির তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। হাই-এন্ড ঘড়ির দাম বেশি হওয়ার পেছনে ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব প্রধান কারণ। একটি রোলেক্স ঘড়ি বংশপরম্পরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর মান নতুনের মতোই থাকে।

রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম ও এন্ট্রি লেভেল মডেল –

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম কত বা কোথা থেকে শুরু। সাধারণত রোলেক্সের এন্ট্রি লেভেল বা শুরুর দিকের মডেলগুলো স্টিল বডির তৈরি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম সাধারণত ৭ লাখ টাকা থেকে শুরু হতে দেখা যায়। তবে মডেল এবং বাজারের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই দাম কম বা বেশি হতে পারে।

রোলেক্স অয়েস্টার পারপেচুয়াল হলো রোলেক্সের সবচেয়ে বেসিক এবং জনপ্রিয় এন্ট্রি লেভেল মডেল। এটি অত্যন্ত ক্লাসিক ডিজাইনের এবং সব বয়সের মানুষের হাতেই এটি বেশ মানানসই লাগে। যারা প্রথমবার রোলেক্স কিনছেন তাদের জন্য এই মডেলটি একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।

অয়েস্টার পারপেচুয়াল কালেকশন:

এই কালেকশনটি রোলেক্সের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এবং এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সিরিজ। রোলেক্স ঘড়ির দাম ২০২৬ সালে এই মডেলটির চাহিদা এবং মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। অয়েস্টার পারপেচুয়াল মডেলটিতে কোনো তারিখ বা ডেট ফাংশন থাকে না, শুধুই সময় দেখা যায়। এর সরলতা এবং আভিজাত্যই একে প্রিমিয়াম হাতঘড়ি হিসেবে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

বাংলাদেশে এই মডেলটির দাম সাধারণত ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে উঠানামা করে। তবে ডায়াল কালার এবং সাইজের ওপর ভিত্তি করে এর দামের কিছুটা তারতম্য ঘটে। রোলেক্স ঘড়ির দাম তালিকা করলে এই ঘড়িটি সবার প্রথমে বা নিচের দিকে থাকে।

রোলেক্স ঘড়ির সর্বোচ্চ দাম ও Exclusive Model –

রোলেক্স ঘড়ির সর্বোচ্চ দাম

এবার আসা যাক রোলেক্স ঘড়ির সর্বোচ্চ দাম এবং এর এক্সক্লুসিভ কালেকশনগুলোর বিস্তারিত আলোচনায়। রোলেক্সের কিছু মডেল আছে যেগুলো হীরা, সোনা এবং প্ল্যাটিনাম দিয়ে তৈরি করা হয়। এই ধরনের রোলেক্স ডায়মন্ড ঘড়ির দাম কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা যায়।

বিশেষ করে রোলেক্স ডেটোনা রেইনবো মডেলটি বিশ্বের অন্যতম দামী ঘড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশে এই ধরনের ঘড়ি সচরাচর পাওয়া যায় না, শুধুমাত্র অর্ডার করলেই আনা সম্ভব হয়। সবচেয়ে দামী রোলেক্স ঘড়ি গুলো সাধারণত নিলামে বা বিশেষ কালেক্টরদের কাছে বিক্রি হতে দেখা যায়।

রোলেক্স ডেটোনা এবং এর আকাশচুম্বী দাম:

রোলেক্স ডেটোনা দাম বাংলাদেশ মার্কেটে সবসময়ই আলোচনার শীর্ষে থাকে কারণ এর চাহিদা অনেক বেশি। এটি মূলত রেসিং ড্রাইভারদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, এখন এটি একটি স্ট্যাটাস সিম্বল। স্টেইনলেস স্টিলের ডেটোনা মডেলের দামও বর্তমান মার্কেটে ৩০ লাখ টাকার উপরে চলে গেছে। আর যদি গোল্ড বা প্ল্যাটিনাম হয়, তবে রোলেক্স ডেটোনা দাম কত তা কল্পনা করা কঠিন।

কিছু কিছু ডেটোনা মডেলের দাম বাংলাদেশে ১ কোটি টাকার উপরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। রোলেক্স ইনভেস্টমেন্ট ঘড়ি হিসেবে ডেটোনা মডেলটি বর্তমানে সবচেয়ে সেরা পছন্দ হিসেবে গণ্য হয়।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় রোলেক্স মডেল ও দামের তালিকা –

বাংলাদেশে বেশ কিছু নির্দিষ্ট রোলেক্স মডেলের জনপ্রিয়তা অন্যান্য মডেলের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায়। নিচে আমরা কিছু জনপ্রিয় মডেল এবং তাদের আনুমানিক বাজার দর নিয়ে আলোচনা করবো। মনে রাখবেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সাথে বাংলাদেশেও ঘড়ির দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে থাকে।

১) রোলেক্স সাবমেরিনার (Rolex Submariner):

রোলেক্স সাবমেরিনার

ডাইভার বা ডুবুরিদের জন্য তৈরি হলেও রোলেক্স সাবমেরিনার দাম সাধারণ মানুষের কাছেও কৌতূহলের বিষয়। এটি দেখতে অত্যন্ত স্পোর্টি এবং মজবুত হওয়ায় তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি খুব জনপ্রিয়। বাংলাদেশে একটি নতুন সাবমেরিনার ডেট মডেলের দাম ১৬ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা হতে পারে।

রোলেক্স সাবমেরিনার ফিচার গুলোর মধ্যে সিরামিক বেজেল এবং ৩০০ মিটার ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স অন্যতম। রোলেক্স সাবমেরিনার দাম বাংলাদেশ মার্কেটে এর কন্ডিশন এবং মেটেরিয়ালের ওপর নির্ভর করে।

২) রোলেক্স জিএমটি-মাস্টার ২ (GMT-Master II):

যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন তাদের জন্য রোলেক্স জিএমটি-মাস্টার একটি আদর্শ ঘড়ি হিসেবে পরিচিত। এই ঘড়িটিতে একই সাথে দুটি ভিন্ন টাইম জোন বা সময় দেখার সুবিধা রয়েছে। এর বিখ্যাত “পেপসি” বা “ব্যাটম্যান” বেজেল কালার কম্বিনেশন একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বর্তমানে এই মডেলটির দাম ২০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়। রোলেক্স পুরুষদের ঘড়ির দাম বিবেচনায় এটি একটি প্রিমিয়াম এবং হাই-ডিমান্ড মডেল।

৩) রোলেক্স ডেটজাস্ট (Datejust):

রোলেক্স ডেটজাস্ট

অফিসিয়াল বা ফর্মাল ব্যবহারের জন্য রোলেক্স ডেটজাস্ট দাম এবং এর ডিজাইন একদম পারফেক্ট। এটি রোলেক্সের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মডেলগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। এর আইকনিক জুবিলি ব্রেসলেট এবং ফ্লুটেড বেজেল একে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

বাংলাদেশে এই মডেলটির দাম ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকার মধ্যে থাকে। নতুন বনাম পুরাতন রোলেক্স দাম এর ক্ষেত্রে ডেটজাস্ট মডেলটি বেশ ভালো ভ্যালু ধরে রাখে।

৪) রোলেক্স ডে-ডেট (Day-Date):

এই ঘড়িটি “প্রেসিডেন্ট ওয়াচ” নামেও পরিচিত এবং এটি শুধুমাত্র গোল্ড বা প্ল্যাটিনামে তৈরি হয়। রোলেক্স ডে-ডেট মডেল পরিধান করা মানেই হলো আপনি সমাজের উচ্চ স্তরের একজন ব্যক্তি। রোলেক্স গোল্ড ঘড়ির দাম সম্পর্কে ধারণা নিতে চাইলে এই মডেলটির দিকে তাকাতে হবে।

বাংলাদেশে এর দাম ৪০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকার উপরে হতে পারে। রোলেক্স স্ট্যাটাস সিম্বল হিসেবে ডে-ডেট মডেলটির কোনো জুড়ি নেই বললেই চলে।

৫) রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডেটোনা (Cosmograph Daytona):

রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডেটোনা

ঘড়ির জগতে রোলেক্স ডেটোনা দাম এবং চাহিদা সবসময়ই আকাশচুম্বী অবস্থানে থাকে। মূলত রেসিং ড্রাইভারদের সময়ের হিসাব রাখার জন্য এই আইকনিক ঘড়িটি তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি হাই-ইনভেস্টমেন্ট পিস হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশে একটি স্টিল ডেটোনা মডেলের দাম ৩০ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে থাকে। আর যদি রোলেক্স গোল্ড বা প্লাটিনাম ভার্সন হয়, তবে দাম কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। যারা ঘড়িতে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য ডেটোনা সেরা পছন্দ।

৬) রোলেক্স অয়েস্টার পারপেচুয়াল (Oyster Perpetual):

আপনি যদি রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম এবং ক্লাসিক ডিজাইনের খোঁজ করেন তবে এটি সেরা। এই মডেলটি রোলেক্সের এন্ট্রি-লেভেল ঘড়ি হিসেবে পরিচিত এবং অত্যন্ত টেকসই হয়ে থাকে। এর ডায়াল বিভিন্ন আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যায় যা তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে নতুন রোলেক্স ঘড়ির দাম হিসেবে এটি ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এটি সিম্পল আভিজাত্যের দিক থেকে কোনো অংশে কম নয়।

৭) রোলেক্স ইয়ট-মাস্টার (Yacht-Master):

রোলেক্স ইয়ট-মাস্টার

যারা সমুদ্র ভ্রমণ বা সেইলিং পছন্দ করেন, তাদের কথা মাথায় রেখে এই মডেলটি তৈরি। এটি দেখতে অনেকটা সাবমেরিনারের মতো হলেও এর ফিনিশিং আরও বেশি লাক্সারি এবং চকচকে হয়। রোলেক্স ইয়ট-মাস্টার মডেলে প্ল্যাটিনাম বা গোল্ডের ব্যবহার একে আরও দামী করে তুলেছে।

বাংলাদেশে এই ঘড়িটির দাম ১৮ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এটি স্পোর্টি লুকের সাথে আভিজাত্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ।

৮) রোলেক্স এক্সপ্লোরার (Explorer):

দুঃসাহসিক অভিযান এবং পাহাড় চড়ার ইতিহাসের সাথে রোলেক্স এক্সপ্লোরার মডেলটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এটি অত্যন্ত মজবুত এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে সঠিক সময় দিতে সক্ষম। এর ডিজাইন খুবই ছিমছাম এবং পরিষ্কার, যা সব বয়সের মানুষের হাতেই মানিয়ে যায়।

বাংলাদেশে অরিজিনাল রোলেক্স এক্সপ্লোরার এর দাম ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে থাকে। যারা খুব বেশি জাঁকজমক পছন্দ করেন না, তাদের জন্য এটি আদর্শ।

৯) রোলেক্স এয়ার-কিং (Air-King):

আকাশপথের বা এভিয়েশনের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রোলেক্স এই বিশেষ মডেলটি বাজারে এনেছে। এর ডায়ালের ডিজাইন বিমানের ককপিটের ইন্সট্রুমেন্টের আদলে তৈরি করা হয়েছে যা বেশ ইউনিক। রোলেক্স এয়ার-কিং মডেলটি প্রফেশনাল সিরিজের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী বা কম দামে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে বর্তমান বাজারে এর দাম ৯ লাখ টাকা থেকে ১২ লাখ টাকার আশেপাশে থাকে। এটি দেখতে বেশ বড় এবং হাতে পরলে বেশ রাজকীয় ভাব আসে।

গোল্ড, ডায়মন্ড ও প্ল্যাটিনাম রোলেক্সের বাজার –

যারা সাধারণ স্টিলের ঘড়িতে satisfied নন, তারা খোঁজেন গোল্ড ও প্লাটিনাম ঘড়ি। রোলেক্সের গোল্ড মডেলগুলো ১৮ ক্যারেট সলিড গোল্ড দিয়ে নিজস্ব কারখানায় তৈরি করা হয়। রোলেক্স ডায়মন্ড ঘড়ির দাম সাধারণ মডেলের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয় এর রত্নপাথরের কারণে।

ফ্যাক্টরি সেট ডায়মন্ড রোলেক্সের ফিনিশিং এবং উজ্জ্বলতা আফটার মার্কেট কাজের চেয়ে অনেক উন্নত। রোলেক্স প্লাটিনাম ঘড়ির দাম সবসময়ই গোল্ডের চেয়ে বেশি হয় কারণ প্ল্যাটিনাম দুর্লভ ধাতু।

রোলেক্স স্কাই-ডুয়েলার (Sky-Dweller):

এটি রোলেক্সের সবচেয়ে জটিল মেকানিজমের ঘড়ি এবং এর দামও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়ে থাকে। রোলেক্স স্কাই-ডুয়েলার দাম বাংলাদেশে ৩৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ লাখ টাকা হতে পারে। এতে বাৎসরিক ক্যালেন্ডার এবং ডুয়াল টাইম জোন ফিচার অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেওয়া হয়েছে। লাক্সারি টাইমপিস হিসেবে স্কাই-ডুয়েলার বর্তমানে অনেক সংগ্রাহকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে।

শীর্ষ ১৫টি রোলেক্স ঘড়ির দামের তালিকা (২০২৬) –

র‍্যাঙ্ক – মডেলের নাম: রেফারেন্স: অরিজিনাল রিটেইল প্রাইস (আনুমানিক):  মার্কেট প্রাইস (আনুমানিক):
সাবমেরিনার ডেট (কালো) 126610LN ১১,৩৫০ ডলার / (৳১৪.২ লাখ) ১৫,৫০০ ডলার / (৳১৯.৪ লাখ)
সাবমেরিনার “স্টারবাকস” (সবুজ) 126610LV ১১,৯০০ ডলার / (৳১৪.৯ লাখ) ১৮,৫০০ ডলার / (৳২৩.১ লাখ)
সাবমেরিনার নো ডেট 124060 ১০,০৫০ ডলার / (৳১২.৬ লাখ) ১৩,৫০০ ডলার / (৳১৬.৯ লাখ)
জিএমটি-মাস্টার ২ “পেপসি” 126710BLRO ১১,৮০০ ডলার / (৳১৪.৮ লাখ) ২৩,৫০০ ডলার / (৳২৯.৪ লাখ)
জিএমটি-মাস্টার ২ “ব্যাটগার্ল” 126710BLNR ১২,০০০ ডলার / (৳১৫.০ লাখ) ১৯,৮০০ ডলার / (৳২৪.৮ লাখ)
জিএমটি-মাস্টার ২ “ব্রুস ওয়েইন” 126710GRNR ১২,০০০ ডলার / (৳১৫.০ লাখ) ১৯,০০০ ডলার / (৳২৩.৮ লাখ)
কসমোগ্রাফ ডেটোনা “পান্ডা” 126500LN ১৬,৯০০ ডলার / (৳২১.১ লাখ) ৩৪,০০০ ডলার / (৳৪২.৫ লাখ)
কসমোগ্রাফ ডেটোনা (কালো) 126500LN ১৬,৯০০ ডলার / (৳২১.১ লাখ) ৩১,০০০ ডলার / (৳৩৮.৮ লাখ)
ডেটজাস্ট ৪১ (ফ্লুটেড/জুবিলি) 126334 ১১,৮৫০ ডলার / (৳১৪.৮ লাখ) ১৫,৫০০ ডলার / (৳১৯.৪ লাখ)
১০ ডেটজাস্ট ৩৬ (ফ্লুটেড/জুবিলি) 126234 ১০,২০০ ডলার / (৳১২.৮ লাখ) ১২,৮০০ ডলার / (৳১৬.০ লাখ)
১১ অয়েস্টার পারপেচুয়াল ৪১ (সবুজ) 124300 ৭,১০০ ডলার / (৳৮.৯ লাখ) ১১,৫০০ ডলার / (৳১৪.৪ লাখ)
১২ অয়েস্টার পারপেচুয়াল ৩৬ (টিফানি/টারকুইজ) 126000 ৬,৭০০ ডলার / (৳৮.৪ লাখ) ১৪,৫০০ ডলার / (৳১৮.১ লাখ)
১৩ এক্সপ্লোরার ১ (৩৬ মিমি) 124270 ৭,৯০০ ডলার / (৳৯.৯ লাখ) ৯,৫০০ ডলার / (৳১১.৯ লাখ)
১৪ এক্সপ্লোরার ২ (পোলার হোয়াইট) 226570 ১০,৬০০ ডলার / (৳১৩.৩ লাখ) ১২,৫০০ ডলার / (৳১৫.৬ লাখ)
১৫ ইয়ট-মাস্টার ৪০ (স্লেট/রোডিয়াম) 126622 ১৩,২০০ ডলার / (৳১৬.৫ লাখ) ১৬,৫০০ ডলার / (৳২০.৬ লাখ)

অরিজিনাল রোলেক্স বনাম রেপ্লিকা: চেনার উপায় –

অরিজিনাল রোলেক্স বনাম রেপ্লিকা

বাংলাদেশে বর্তমানে “মাস্টার কপি” বা “সুপার ক্লোন” নামে প্রচুর নকল রোলেক্স ঘড়ি বিক্রি হচ্ছে। এগুলো দেখতে এতটাই হুবহু যে, সাধারণ চোখে আসল রোলেক্স চিনবো কিভাবে তা বোঝা প্রায় অসম্ভব। তবে কিছু সূক্ষ্ম বিষয় আছে যা রোলেক্স কখনই নকল করতে পারে না। অরিজিনাল রোলেক্স ঘড়ির আসল-নকল পার্থক্য বোঝার জন্য নিচের বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

ক) ওজন এবং মেটেরিয়ালের গুণমান –

হাতে নিলেই প্রথম যে পার্থক্যটি বোঝা যায় তা হলো ঘড়ির ওজন বা ওয়েট। অরিজিনাল রোলেক্স ঘড়ি তৈরি হয় ৯0৪এল (904L) গ্রেডের অত্যন্ত শক্ত স্টিল এবং সলিড গোল্ড দিয়ে। এর ফলে আসল ঘড়িটি হাতে নিলে বেশ ভারী এবং মজবুত মনে হবে। অন্যদিকে, রেপ্লিকা ঘড়িতে সাধারণ মানের স্টিল বা ফাঁপা মেটাল ব্যবহার করায় তা হালকা মনে হয়।

খ) সেকেন্ডের কাঁটার মুভমেন্ট (The Sweep) –

সাধারণ বা সস্তা ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটা “টিক-টিক” শব্দ করে এক সেকেন্ড পর পর নড়ে। রোলেক্স অটোমেটিক মুভমেন্ট এর সেকেন্ডের কাঁটা অত্যন্ত মসৃণভাবে ঘুরতে থাকে, যা “সুইপ” (Sweep) নামে পরিচিত। আপনি যদি ঘড়িটি কানের কাছে নেন এবং কোনো “টিক-টিক” শব্দ শুনতে পান, তবে নিশ্চিত থাকুন এটি নকল। আসল রোলেক্সের মেকানিজম এতই নিখুঁত যে এটি প্রায় শব্দহীনভাবে কাজ করে।

গ) সাইক্লোপস লেন্স বা তারিখের ম্যাগনিফিকেশন –

রোলেক্সের ডেট বা তারিখ দেখার স্থানে একটি ছোট লেন্স থাকে, যাকে “সাইক্লোপস” বলা হয়। আসল রোলেক্স ডেটজাস্ট বা সাবমেরিনারের এই লেন্সটি তারিখকে ঠিক ২.৫ গুণ বড় করে দেখাবে। নকল ঘড়িতে এই লেন্সটি থাকে, তা তারিখকে খুব একটা বড় দেখায় না বা ঝাপসা দেখায়। আসল লেন্সটি গ্লাসের ওপর একটি আলাদা বুদবুদের মতো মনে হয়, ফ্ল্যাট নয়।

ঘ) কেস ব্যাক বা ঘড়ির পেছনের অংশ –

অধিকাংশ রোলেক্স মডেলের পেছনের অংশ বা কেস ব্যাক (Case Back) সম্পূর্ণ সলিড মেটাল দিয়ে ঢাকা থাকে। রোলেক্স খুব কম মডেল (যেমন নতুন কিছু ডেটোনা বা ১৯৩০-এর মডেল) ছাড়া গ্লাস ব্যাক তৈরি করে না। যদি দেখেন ঘড়ির পেছন দিয়ে ভেতরের মেশিন দেখা যাচ্ছে, তবে ৯৯% সম্ভাবনা এটি একটি ফেইক বা রেপ্লিকা রোলেক্স।

এছাড়া আসল রোলেক্সের পেছনে সাধারণত কোনো লোগো বা লেখা খোদাই করা থাকে না (ব্যতিক্রম: সি-ডয়েলার বা মিলিটারি মডেল)।

ঙ) সিরিয়াল এবং মডেল নম্বরের ফিনিশিং –

সিরিয়াল এবং মডেল নম্বরের ফিনিশিং

ঘড়ির স্ট্র্যাপ বা ব্রেসলেট খুললে কেসের গায়ে সিরিয়াল এবং মডেল নম্বর খোদাই করা থাকে। অরিজিনাল রোলেক্স এর এই লেখাগুলো হীরা দিয়ে কাটার মতো অত্যন্ত শার্প এবং গভীর হয়। আলোতে ধরলে এই লেখাগুলো চকচক করে। নকল ঘড়িতে এই নম্বরগুলো সাধারণত অস্পষ্ট, বালি বালি ভাব (Sand-blasted) অথবা অ্যাসিড দিয়ে লেখা মনে হয়।

চ) ক্রাউন বা চাবি এবং লোগো –

ঘড়ির সময় ঠিক করার চাবি বা “ক্রাউন” (Crown) এর ওপর রোলেক্সের লোগোটি খুব সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা থাকে। আসল ঘড়িতে এই লোগোটি হাতের স্পর্শে উঁচু মনে হবে এবং এটি কেসের সাথে খুব সুন্দরভাবে মিশে থাকবে। নকল ঘড়িতে লোগোটি অনেক সময় চ্যাপ্টা মনে হয় বা আঠা দিয়ে লাগানো মনে হতে পারে।

ছ) গ্লাসের ওপর লেজার এচিং (Micro-Etched Crown) –

২০০২ সালের পর থেকে তৈরি সব রোলেক্স ঘড়ির স্যাফায়ার ক্রিস্টাল গ্লাসের ঠিক ৬টার ঘরে খুব ছোট একটি ক্রাউন লোগো থাকে। এটি খালি চোখে দেখা খুব কঠিন, সঠিক আলো বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে এটি দেখা যায়। নকল ঘড়িতে এটি থাকে না, অথবা থাকলেও তা খুব বড় করে দেওয়া থাকে যা সহজেই চোখে পড়ে।

প্রো টিপ: যদি কোনো বিক্রেতা আপনাকে বাজার দরের চেয়ে অবিশ্বাস্য কম দামে নতুন রোলেক্স ঘড়ির দাম অফার করে, তবে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, রোলেক্সের কোয়ালিটি যেমন প্রিমিয়াম, এর দামও তেমনই, এখানে সস্তা বলে কিছু নেই।

বিশ্বস্ত সেলার এবং Munfanmart.com প্রসঙ্গ:

আপনি যদি অনলাইন থেকে ঘড়ির ধারণা নিতে চান তবে Popular Watch Munfanmart.com দেখতে পারেন। যদিও রোলেক্স কেনার জন্য সবসময় অথরাইজড ডিলার বা বিশ্বস্ত শোরুমে যাওয়া উচিত। অনলাইনে অনেক সময় রোলেক্স ঘড়ি কোথায় পাওয়া যায় তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

সঠিক সোর্স থেকে ঘড়ি না কিনলে আপনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই বাংলাদেশে রোলেক্স কেনার গাইড হিসেবে সবসময় ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন বা যাচাই করার পরামর্শ দিই।

রোলেক্স কেন একটি ভালো বিনিয়োগ?

অনেকে মনে করেন ঘড়ি কেনা মানে টাকা অপচয়, রোলেক্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। রোলেক্স বিনিয়োগ ঘড়ি হিসেবে বর্তমান বিশ্বে স্বর্ণের চেয়েও ভালো রিটার্ন দিচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। আপনি যদি সঠিক মডেল যেমন সাবমেরিনার বা ডেটোনা কেনেন, তবে দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

পুরানো রোলেক্স ঘড়ির দাম সময়ের সাথে সাথে নতুনের চেয়েও বেশি হতে দেখা যায়। কোন রোলেক্স মডেল সবচেয়ে দামি হবে ভবিষ্যতে, তা নির্ভর করে এর উৎপাদন সংখ্যার ওপর। লিমিটেড এডিশন রোলেক্স বা ডিসকন্টিনিউড মডেলগুলোর দাম রাতারাতি বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে।

বাংলাদেশে রোলেক্স কেনার আগে যা জানা জরুরি:

বাংলাদেশে অফিসিয়াল রোলেক্স রিটেইলারের সংখ্যা খুবই সীমিত, তাই অনেকেই গ্রে মার্কেট থেকে কেনেন। Rolex official price Bangladesh এবং গ্রে মার্কেটের প্রাইসের মধ্যে বেশ বড় পার্থক্য থাকে। অফিসিয়াল শোরুমে ওয়েটিং লিস্ট থাকে, তাই ঘড়ি পেতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

মার্কেটে প্রিমিয়াম দিয়ে সাথে সাথেই নতুন রোলেক্স ঘড়ির দাম মিটিয়ে কেনা যায়। রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়ির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের ডলার রেটের সাথে সাথে নিয়মিত ওঠানামা করে।

পুরুষ ও মহিলাদের রোলেক্স কালেকশন:

শুধুমাত্র পুরুষদের জন্যই নয়, রোলেক্স নারীদের জন্যও অত্যন্ত চমৎকার সব ঘড়ি তৈরি করে থাকে। রোলেক্স পুরুষদের ঘড়ির দাম এবং মহিলাদের ঘড়ির দামে খুব একটা তফাৎ নেই। লেডি ডেটজাস্ট বা পার্ল-মাস্টার মডেলগুলো নারীদের হাতে অত্যন্ত শোভনীয় এবং আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে।

রোলেক্স কালেকশন এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন সব ধরণের রুচির মানুষ তাদের পছন্দ খুঁজে পায়। সুইস লাক্সারি ঘড়ি হিসেবে রোলেক্স নারী ও পুরুষ উভয়ের কাছেই সমান জনপ্রিয়।

২০২৬ সালে রোলেক্স বাজার –

আমরা যদি রোলেক্স ঘড়ির দাম ২০২৬ সাল নিয়ে ভাবি, তবে দাম বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি এবং রোলেক্সের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। কোন রোলেক্স মডেলের দাম কম হবে তা বলা কঠিন, কারণ সব মডেলেরই চাহিদা তুঙ্গে।

রোলেক্স নতুন মডেলের দাম ঘোষণা করার সাথে সাথেই বাজারে পুরনো মডেলের দাম বেড়ে যায়। তাই আপনি যদি রোলেক্স কেনার কথা ভাবেন, তবে এখনই সঠিক সময় হতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) –

প্রশ্ন ১. বাংলাদেশে রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম কত থেকে শুরু হয়?

উত্তর: বাংলাদেশে বর্তমানে রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম সাধারণত ৭ লাখ টাকা থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে শুরু হয়। রোলেক্সের এন্ট্রি-লেভেল বা শুরুর দিকের মডেল হিসেবে ‘অয়েস্টার পারপেচুয়াল’ (Oyster Perpetual) সবথেকে জনপ্রিয়, যা এই রেঞ্জের মধ্যে পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ২. অরিজিনাল রোলেক্স ঘড়ি চেনার সহজ উপায় কী?

উত্তর: অরিজিনাল রোলেক্স চিনবো কিভাবে তা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এর সেকেন্ডের কাঁটার গতিবিধি লক্ষ্য করা। আসল রোলেক্সে কাঁটাটি কোনো শব্দ ছাড়া অত্যন্ত মসৃণভাবে বা ‘সুইপ’ করে চলে। তাছাড়া, আসল ঘড়ির ওজন নকলের চেয়ে বেশ ভারী হয় এবং ডেট বা তারিখ দেখার লেন্সটি লেখাকে ২.৫ গুণ বড় করে দেখায়।

প্রশ্ন ৩. রোলেক্স ঘড়ি কেন এত দামী হয়?

উত্তর: রোলেক্স কেন এত দামী তার প্রধান কারণ হলো এর নিখুঁত কারুকাজ এবং ব্যবহৃত দামী মেটেরিয়াল। রোলেক্স তাদের ঘড়িতে নিজস্ব কারখানায় তৈরি ১৮ ক্যারেট সোনা, প্ল্যাটিনাম এবং অত্যন্ত শক্ত 904L স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করে। একটি রোলেক্স ঘড়ি তৈরি করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে এবং এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকে।

প্রশ্ন ৪. কোন রোলেক্স মডেলের রি-সেল ভ্যালু বা বিক্রয় মূল্য সবচেয়ে ভালো?

উত্তর: বিনিয়োগের কথা চিন্তা করলে রোলেক্স সাবমেরিনার এবং রোলেক্স ডেটোনা মডেলগুলোর রি-সেল ভ্যালু সবচেয়ে ভালো। এই স্পোর্টস মডেলগুলোর চাহিদা সব সময় যোগানের চেয়ে বেশি থাকে, তাই পুরনো হলেও এগুলোর দাম নতুনের কাছাকাছি বা অনেক সময় বেশিও হতে পারে।

প্রশ্ন ৫. বাংলাদেশে আসল রোলেক্স ঘড়ি কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: বাংলাদেশে অথরাইজড রোলেক্স রিটেইলার বা ডিলার খুব সীমিত। তবে কিছু স্বনামধন্য ঘড়ির দোকান এবং বিশ্বস্ত অনলাইন শপ (যেমন: Munfanmart.com বা অন্যান্য ট্রাস্টেড সোর্স) থেকে বা বিদেশ থেকে অর্ডার দিয়ে আসল রোলেক্স কেনা সম্ভব। কেনার আগে অবশ্যই বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ওয়ারেন্টি কার্ড যাচাই করে নেওয়া উচিত।

উপসংহার: আপনার স্বপ্নের রোলেক্স –

পরিশেষে বলা যায়, রোলেক্স শুধুমাত্র সময় দেখার যন্ত্র নয়, এটি একটি অর্জন। রোলেক্স ঘড়ির সর্বনিম্ন দাম ও সর্বোচ্চ দাম জেনে আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আমরা চেষ্টা করেছি Rolex watch price in Bangladesh সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করতে।

আপনি যদি আসল রোলেক্স কত টাকা তা জেনে থাকেন, তবে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই। রোলেক্স ঘড়ির রেঞ্জ কত তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার পছন্দ এবং মডেলের ওপর। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাকে আপনার স্বপ্নের রোলেক্স ঘড়িটি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

আপনার স্টাইল এবং আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে একটি ভালো ঘড়ির কোনো বিকল্প নেই। নিত্যনতুন এবং ট্রেন্ডি ঘড়ির বিশাল সমাহার দেখতে আজই ভিজিট করুন। Munfanmart পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই আন্তরিক স্বাগতম।

Leave a Reply