ছেলেদের ও মেয়েদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ির দাম ২০২৬
বর্তমান সময়ে ঘড়ি শুধুমাত্র সময় দেখার যন্ত্র নয়, এটি আমাদের স্টাইল এবং ফ্যাশনের অংশ। বিশেষ করে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় হুটহাট বৃষ্টি বা গরমে ঘামের কারণে ঘড়ি নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। তাই এখন সবাই সাধারণ ঘড়ির বদলে ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কিনতেই বেশি পছন্দ করেন। আপনি কি জানতেন যে, সঠিক ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি ব্যবহার করলে তা বছরের পর বছর নতুনের মতো থাকে?
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ছেলেদের ও মেয়েদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ির দাম এবং এর বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আপনি যদি বাজেটের মধ্যে সেরা water resistant ঘড়ি মার্কেটে খুঁজে থাকেন, তবে এই গাইডটি আপনার জন্য। ভালো মানের আসল ঘড়ি এবং সঠিক দাম জানতে হলে আপনাকে এই লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। আর নিশ্চিন্তে অরিজিনাল ঘড়ি কিনতে আপনারা ভিজিট করতে পারেন munfanmart.com ওয়েবসাইটে।
ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
সহজ কথায়, যে ঘড়ির ভেতরে পানি প্রবেশ করতে পারে না তাকেই ওয়াটারপ্রুফ বা ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট ঘড়ি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে আমরা হাত ধোয়া, অজু করা বা বৃষ্টির কবলে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। সাধারণ ঘড়ি হলে সামান্য পানির স্পর্শেই তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বা ভেতরে পানি জমার সম্ভাবনা থাকে।
একটি ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি আপনাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখতে পারে। যারা বাইক চালান বা নিয়মিত খেলাধুলা করেন, তাদের জন্য ছেলেদের স্পোর্টস ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অন্যদিকে, গৃহিনী বা কর্মজীবী নারীদের জন্যও পানির কাজ করার সময় ঘড়ি খোলার ঝামেলা এড়াতে এটি জরুরি। তাই একবার ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কিনলে, তা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চিন্ত সেবা প্রদান করবে।
ছেলেদের ও মেয়েদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ির দাম বাংলাদেশে –

বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এবং বিভিন্ন দামের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি পাওয়া যাচ্ছে। আপনার বাজেট এবং প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে আপনি যেকোনো একটি মডেল বেছে নিতে পারেন। তবে কেনার আগে waterproof watch price in Bangladesh সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখাটা খুব জরুরি। আসুন বিভিন্ন বাজেটের ঘড়ির দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
বর্তমান বাজার মূল্য ধারণা:
বাজারে মূলত তিন ধরনের বাজেটের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি পাওয়া যায়, যা সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকে।
- বাজেট রেঞ্জ (Budget Range): ছাত্রছাত্রী বা সাধারণ ব্যবহারের জন্য ৫০০/- টাকা থেকে ১,৫০০/- টাকার মধ্যে ভালো ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি পাওয়া যায়। এই রেঞ্জে SKMEI ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি এবং কিছু চাইনিজ ব্র্যান্ডের ডিজিটাল ঘড়ি বেশ জনপ্রিয়।
- মিড-রেঞ্জ (Mid-Range): যারা একটু ভালো কোয়ালিটি এবং মেটাল বা লেদার বেল্ট পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই রেঞ্জ। সাধারণত ২,০০০/- টাকা থেকে ৫,০০০/- টাকার মধ্যে NAVIFORCE ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি বা OLEVS ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি পাওয়া যায়।
- প্রিমিয়াম রেঞ্জ (Premium Range): আপনি যদি ব্র্যান্ড এবং হাই পারফর্মেন্স চান, তবে ৫,০০০/- টাকার ওপরে বাজেট রাখতে হবে। এই বাজেটে Casio ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি দাম একটু বেশি হলেও এর স্থায়িত্ব এবং লুক অসাধারণ হয়।
কোন বিষয়গুলো দামে প্রভাব ফেলে?
ঘড়ির দাম কেন কম বা বেশি হয় তা বোঝাটা একজন স্মার্ট ক্রেতার জন্য জরুরি।
- ব্র্যান্ড (Brand): নামী ব্র্যান্ডের ঘড়ির দাম সবসময় একটু বেশি হয় কারণ তারা কোয়ালিটি নিশ্চিত করে।
- Water resistance লেভেল: একটি ঘড়ি ৩ এটিএম নাকি ১০ এটিএম তার ওপর দাম অনেকখানি নির্ভর করে। বেশি পানির চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সম্পন্ন ঘড়ির দাম স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ঘড়ির চেয়ে বেশি হবে।
- ডিজাইন ও উপকরণ: ঘড়ির গ্লাস, চেইন বা বেল্টের মেটেরিয়াল এবং ডায়ালের ডিজাইনের ওপর দাম ওঠানামা করে।
ছেলেদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ির জনপ্রিয় ডিজাইন –
ছেলেদের ফ্যাশনে ঘড়ি একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ, যা তাদের ব্যক্তিত্বকে আরও ফুটিয়ে তোলে। বর্তমানে ছেলেদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি বিভিন্ন স্টাইল এবং ডিজাইনে পাওয়া যাচ্ছে যা সব বয়সের পুরুষের জন্য মানানসই।
- স্পোর্টস ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি: যারা খেলাধুলা পছন্দ করেন বা রাফ ইউজ করেন, তাদের জন্য বড় ডায়ালের ডিজিটাল স্পোর্টস ঘড়ি সেরা। এগুলো সাধারণত শকপ্রুফ হয় এবং রাবারের বেল্ট থাকায় পানিতে বা ঘামে নষ্ট হয় না।
- ক্যাজুয়াল বা নিত্যদিনের ঘড়ি: জিন্স বা টি-শার্টের সাথে পড়ার জন্য লেদার বা সিন্থেটিক বেল্টের এনালগ ঘড়িগুলো খুব জনপ্রিয়। এগুলো দেখতে সিম্পল হলেও বেশ স্টাইলিশ এবং প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য বেশ আরামদায়ক হয়।
- অফিসওয়্যার বা ফরমাল ঘড়ি: মেটাল চেইনের ক্লাসিক ডিজাইনের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়িগুলো অফিসের ফরমাল লুকের সাথে দারুণ মানায়। সিলভার, গোল্ডেন বা কালো মেটাল চেইনের ঘড়িগুলো পুরুষদের আভিজাত্য প্রকাশে সাহায্য করে।
আপনার পছন্দ যেটাই হোক, munfanmart.com এ ছেলেদের সব ধরনের কালেকশন সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাচ্ছে।
মেয়েদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ির ট্রেন্ড –
নারীদের ফ্যাশনে ঘড়ি এখন আর শুধু সময় দেখার জন্য নয়, এটি একটি গহনার মতো কাজ করে। বর্তমানে মেয়েদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি দাম হাতের নাগালে থাকায় অনেকেই পোশাকের সাথে মিলিয়ে একাধিক ঘড়ি ব্যবহার করেন।
- ফ্যাশনেবল ডিজাইন: মেয়েদের ঘড়িতে এখন স্টোন বা পাথরের কাজ এবং ডায়ালের ভেতরে বিভিন্ন নকশা খুব চলছে। এই ধরনের মেয়েদের ফ্যাশন ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি যেকোনো পার্টি বা অনুষ্ঠানে পড়ার জন্য একদম পারফেক্ট।
- স্লিম ও লাইটওয়েট ঘড়ি: ভারী ঘড়ির বদলে মেয়েরা এখন চিকন বেল্ট এবং ছোট ডায়ালের হালকা ঘড়ি পছন্দ করছেন। বিশেষ করে রোজ গোল্ড, পিংক বা সিলভার কালারের ম্যাগনেটিক বেল্টের ঘড়িগুলো এখন খুব জনপ্রিয়।
- ব্রেসলেট স্টাইল: কিছু ঘড়ি দেখতে একদম ব্রেসলেটের মতো, যা হাতে পড়লে আলাদা করে আর চুড়ি পড়ার প্রয়োজন হয় না। এই ঘড়িগুলোও এখন ওয়াটারপ্রুফ ফিচারের সাথে পাওয়া যাচ্ছে, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে সুবিধা দেয়।
Water Resistance লেভেল ব্যাখ্যা (3 ATM, 5 ATM, 10 ATM) –
অনেকেই ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কেনার সময় ‘ATM’ লেখাটি দেখেন, এর সঠিক অর্থ বোঝেন না। সঠিক ব্যবহারের জন্য এই রেটিং বোঝা খুব জরুরি, নইলে ভুল ব্যবহারে ঘড়ি নষ্ট হতে পারে।
- 3 ATM ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি: এটি সাধারণ পানির ঝাপটা বা বৃষ্টির পানি সহ্য করতে পারে। হাত ধোয়া বা বৃষ্টির সময় এটি নিরাপদ, এই ঘড়ি পড়ে গোসল বা সাঁতার কাটা যাবে না।
- 5 ATM ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি: এই রেটিংয়ের ঘড়ি পড়ে আপনি নিশ্চিন্তে শাওয়ার নিতে পারবেন বা হালকা সাঁতার কাটতে পারবেন। দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের পানির কাজের জন্য ৫ এটিএম রেটিংয়ের ঘড়ি সবচেয়ে উপযুক্ত।
- 10 ATM ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি: যারা প্রফেশনাল সাঁতারু বা অনেকক্ষণ পানিতে থাকেন, তাদের জন্য ১০ এটিএম ঘড়ি প্রয়োজন। Swimming উপযোগী ঘড়ি বলতে মূলত ১০ এটিএম বা তার ওপরের রেটিং বোঝানো হয়ে থাকে।
তাই ঘড়ি কেনার সময় আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ATM রেটিং দেখে কেনা উচিত।
জনপ্রিয় ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ির ব্র্যান্ড বাংলাদেশে –
বাংলাদেশে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি এখন খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু ব্র্যান্ড আছে যা, বাজেটের মধ্যে সেরা আবার কিছু ব্র্যান্ড প্রিমিয়াম কোয়ালিটি অফার করে।
SKMEI ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি:

কম বাজেটের মধ্যে সেরা ডিজিটাল এবং এনালগ ঘড়ির জন্য এই ব্র্যান্ডটি জনপ্রিয়।
SKMEI ঘড়ির প্রধান ফিচারসমূহ –
১. শক্তিশালী ও য়াটারপ্রুফ প্রযুক্তি: অধিকংশ জনপ্রিয় SKMEI মডেল (যেমন: 1251, 1628) 5 ATM বা50 মিটার পর্যন্ত ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট। এর মানে আপনি এই ঘড়ি পড়ে নিশ্চিন্তে হাত ধুতে পারেন, বৃষ্টিতে ভিজতে পারেন এবং হালকা সাঁতার (Swimming) কাটতে পারেন।
২. শকপ্রুফ বা আঘাত সহনশীল: এই ঘড়িগুলোর বডি অত্যন্ত মজবুত ABS প্লাস্টিক বা হার্ড মেটাল দিয়ে তৈরি। হাত থেকে পড়ে গেলে বা খেলাধুলার সময় কোনো আঘাতে সহজে ভাঙ্গে না বা নষ্ট হয় না। তাই একে Rugged Watch বলা হয়।
৩. নাইটভিশন ডিসপ্লে (LED Light): SKMEI ঘড়িতে উন্নতমানের EL Backlight ব্যবহার করা হয়। অন্ধকারে একটি বাটন চাপলেই ডিসপ্লে জ্বলে ওঠে, ফলে রাতের বেলা সময় দেখতে কোনো অসুবিধা হয় না।
৪. মাল্টি-ফাংশনাল সুবিধা: শুধুমাত্র সময় দেখা নয়, এতে রয়েছে Stopwatch (দৌড় বা ব্যায়ামের সময় পরিমাপের জন্য), Alarm (সকালে ওঠার জন্য), এবং Full Calendar (দিন ও তারিখ দেখার জন্য)।
৫. কমফোর্টেবল ডিজাইন: এর বেল্টগুলো হাই-কোয়ালিটি PU রাবার দিয়ে তৈরি যা খুবই নমনীয়। দীর্ঘক্ষণ হাতে পড়ে থাকলেও কোনো দাগ পড়ে না বা ঘাম জমে অস্বস্তি তৈরি করে না।
NAVIFORCE ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি:

যারা একটু রাফ অ্যান্ড টাফ লুক পছন্দ করেন তাদের জন্য নেভিফোর্স সেরা পছন্দ।
NAVIFORCE ঘড়ির প্রধান ফিচারসমূহ –
১. প্রিমিয়াম ও অফিসিয়াল ডিজাইন: NAVIFORCE ঘড়িগুলোর ডিজাইন খুবই আভিজাত্যপূর্ণ। এর মেটাল বডি এবং ডায়ালের ফিনিশিং এতটাই নিখুঁত যে এটি অফিস, মিটিং বা যেকোনো পার্টিতে পড়ার জন্য আদর্শ। এটি আপনার পার্সোনালিটিকে আরও গর্জিয়াস করে তোলে।
২. জাপানিজ কোয়ার্টজ প্রযুক্তি: এই ঘড়িতে উন্নতমানের Japanese Quartz Movement ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ঘড়িটি বছরের পর বছর একদম সঠিক সময় দেয় এবং এর ব্যাটারি লাইফ সাধারণ ঘড়ির চেয়ে বেশি হয়।
৩. টেকসই কালার গ্যারান্টি: সাধারণত মেটাল ঘড়ির রং কিছুদিন পর উঠে যায়, NAVIFORCE এ ব্যবহার করা হয় Vacuum Ion Plating প্রযুক্তি। ফলে এর গোল্ডেন বা কালো রং দীর্ঘদিন নতুনের মতো উজ্জ্বল থাকে এবং সহজে ফ্যাকাশে হয় না।
৪. ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স (30M): অধিকাংশ NAVIFORCE ঘড়ি 3 ATM (30 Meter) ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট। অর্থাৎ, হাত ধোয়ার সময় ছিটা লাগলে বা হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজলে ঘড়ির কোনো ক্ষতি হবে না। (তবে এটি পড়ে সাঁতার না কাটাই ভালো)।
৫. মজবুত ও ভারীগঠন: যাদের হাতে একটু ভারী ঘড়ি মানায়, তাদের জন্য এটি সেরা। এর Zinc Alloy Case ঘড়িটিকে বেশ মজবুত করে এবং হাতে নিলে একটি দামী ঘড়ির অনুভূতি পাওয়া যায়।
OLEVS ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি:

এটি একটি লাক্সারি ব্র্যান্ড যা সাশ্রয়ী দামে প্রিমিয়াম লুকের ঘড়ি তৈরি করে। বিশেষ করে couple ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি সেটের জন্য এই ব্র্যান্ডটি কাপলদের কাছে খুব জনপ্রিয়।
OLEVS ঘড়ির প্রধান ফিচারসমূহ –
১. লাক্সারি ও এলিগেন্ট ডিজাইন: OLEVS ঘড়িগুলো দেখতে অত্যন্ত দামী সুইস ঘড়ির মতো মনে হয়। এর ডায়ালের ডিজাইন, ডায়মন্ড কাট ফিনিশিং এবং গোল্ডেন-সিলভার কালার কম্বিনেশন একে একটি রাজকীয় লুক দেয়। অফিস বা বিয়ের অনুষ্ঠানে পড়ার জন্য এটি আদর্শ।
২. স্ক্র্যাচ রেসিস্ট্যান্ট গ্লাস: এই ঘড়িতে সাধারণ কাঁচের বদলে ব্যবহার করা হয় High Hardness Coated Glass। এটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং এতে সহজে কোনো দাগ বা স্ক্র্যাচ পড়ে না। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গ্লাসটি নতুনের মতো চকচকে থাকে।
৩. এইচ ডিলুমিনাস (Night Vision): OLEVS ঘড়ির কাঁটাগুলোতে বিশেষ Luminous Coating থাকে। দিনের বেলা এটি আলো শোষণ করে রাখে এবং রাতে বা অন্ধকারে সময় দেখার সময় উজ্জ্বল সবুজ বা নীল আলো দেয়, যা দেখতে খুব সুন্দর লাগে।
৪. ন্যানো সিল্ড ওয়াটারপ্রুফ: এর 30 Meters Water Resistance ক্ষমতা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। এটি ন্যানো-সিল্ড প্রযুক্তিতে তৈরি, তাই হাত ধোয়া, বৃষ্টির ছিটা বা ঘামে ঘড়ির ভেতরের মেকানিজমের কোনো ক্ষতি হয় না।
৫. সেরা কাপল গিফট: বাংলাদেশে Couple Watch হিসেবে OLEVS সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। একই ডিজাইনের ছেলে ও মেয়েদের ঘড়ি সেট আকারে পাওয়া যায়, যা বিবাহ বার্ষিকী বা ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য সেরা পছন্দ।
Casio ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি:

ক্যাসিও নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই, এর স্থায়িত্ব এবং গুণমান সর্বজনস্বীকৃত।
Casio ঘড়ির প্রধান ফিচারসমূহ –
১. লেজেন্ডারি জাপানিজ প্রযুক্তি: Casio ঘড়ির সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর নিখুঁত সময় এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব। এর Japanese Quartz Movement বিশ্বসেরা, যা সময়ের হেরফের হতে দেয় না। একবার কিনলে ব্যাটারি পরিবর্তন ছাড়া এটি বছরের পর বছর নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেয়।
২. বিভিন্ন স্তরের ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স: ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী Casio বিভিন্ন রেটিংয়ের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি তৈরি করে। Basic WR: সাধারণ বৃষ্টি বা ওযুর পানির জন্য। 50M/100M: সাঁতার কাটা বা স্নোরকেলিংয়ের জন্য উপযুক্ত (যেমন: Youth Series)। 200M: গভীর পানিতে ডাইভিংয়ের জন্য উপযুক্ত (যেমন: G-Shock বা Duro মডেল)।
৩. ১০ বছরের ব্যাটারি লাইফ: Casio-র অনেক জনপ্রিয় মডেল (যেমন: AE-1200, F-91W) রয়েছে যেগুলোতে 10-Year Battery Life প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, একবার কিনলে আগামী এক দশকে আপনাকে ব্যাটারি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
৪. মজবুত গঠন (G-Shock): আপনি যদি রাফ ইউজের জন্য ঘড়ি চান, তবে Casio G-Shock এর কোনো বিকল্প নেই। এটি হাত থেকে পড়লে, আছাড় খেলেও ভাঙ্গে না। এর শক রেসিস্ট্যান্ট বডি যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য তৈরি।
৫. ক্লাসিক ও টাইমলেস ডিজাইন: Casio-র ভিনটেজ বা রেট্রো ডিজাইনের গোল্ডেন এবং সিলভার ঘড়িগুলো ফ্যাশন সচেতন মানুষের কাছে সবসময়ই ট্রেন্ডি। এটি ক্যাজুয়াল বা ফরমাল সব ধরণের পোশাকের সাথেই দারুণ মানিয়ে যায়।
এই সবকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের অরিজিনাল ঘড়ি আপনি munfanmart.com থেকে নিশ্চিন্তে অর্ডার করতে পারেন।
ওয়াটারপ্রুফ বনাম ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট – পার্থক্য
অনেকে মনে করেন ‘ওয়াটারপ্রুফ’ এবং ‘ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট’ শব্দ দুটি একই, আসলে এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। টেকনিক্যালি কোনো ঘড়িই ১০০% ওয়াটারপ্রুফ বা চিরস্থায়ীভাবে পানিরোধী হতে পারে না।
Water Resistant মানে হলো ঘড়িটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানির চাপ সহ্য করতে সক্ষম। যেমন একটি ৩০ মিটার ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট ঘড়ি শুধু বৃষ্টির ছিটা থেকে রক্ষা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ ভাষায় আমরা যাকে Waterproof বলি, তা মূলত উচ্চ ক্ষমতার ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স বোঝায়।
সুতরাং, দোকানদার যদি বলে ঘড়িটি সম্পূর্ণ ওয়াটারপ্রুফ, তবুও আপনাকে এর ম্যানুয়াল বা পেছনের লেখা চেক করতে হবে। Waterproof vs water resistant পার্থক্য না বুঝলে আপনি ভুল ঘড়ি কিনে প্রতারিত হতে পারেন। সব সময় ঘড়ির গায়ে লেখা গভীরতা বা ATM রেটিং দেখে তবেই সেটি পানিতে ব্যবহার করবেন।
আসল ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি চেনার উপায় –
বাজারে এখন প্রচুর কপি বা রেপ্লিকা ঘড়ি পাওয়া যাচ্ছে যা দেখতে হুবহু আসল ঘড়ির মতোই। তাই আসল ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি চেনার উপায় জানা থাকলে আপনি ঠকবেন না।
- ব্র্যান্ডিং ও লোগো: আসল ঘড়ির লোগো এবং লেখাগুলো খুব পরিষ্কার এবং নিখুঁতভাবে খোদাই করা থাকে। কপি ঘড়িতে লেখার ফন্ট বা স্পেলিংয়ে ভুল থাকার সম্ভাবনা থাকে বা ঝাপসা দেখায়।
- ফিনিশিং ও ওজন: অরিজিনাল ঘড়ির মেটেরিয়াল খুব উন্নত হয়, তাই হাতে নিলে এর ওজন এবং ফিনিশিং প্রিমিয়াম মনে হবে। সস্তা মেটাল বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি নকল ঘড়ি হাতে নিলে হালকা এবং সস্তা মনে হয়।
- ব্যাক কভারের তথ্য: আসল ঘড়ির পেছনে মডেল নম্বর, ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স লেভেল এবং ব্র্যান্ডের নাম খোদাই করা থাকে। স্টিকার বা আলগা কালির লেখা দেখলে বুঝবেন সেটি সম্ভবত আসল ঘড়ি নয়।
- ওয়ারেন্টি: অথেনটিক সেলাররা সবসময় ঘড়ির সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদের অফিসিয়াল বা শপ ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকেন।
কোথা থেকে কিনবেন ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি?
অনলাইন এবং অফলাইন দুই জায়গাতেই এখন প্রচুর ঘড়ির দোকান গড়ে উঠেছে। তবে ইলেকট্রনিক বা গ্যাজেট জাতীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত দোকান নির্বাচন করা সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
- অনলাইন শপ: ঘরে বসে হাজারো ডিজাইনের মধ্যে থেকে পছন্দের ঘড়িটি বেছে নেওয়ার জন্য অনলাইন শপিং সেরা। বিশেষ করে ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি অনলাইন দাম যাচাই করে কেনা যায় বলে ঠকে যাওয়ার ভয় থাকে না। আপনারা munfanmart.com থেকে লেটেস্ট সব কালেকশন দেখতে এবং অর্ডার করতে পারেন। তারা সারা বাংলাদেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং দ্রুততম সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়।
- অফলাইন শপ: যারা নিজের হাতে ধরে বা পড়ে দেখে কিনতে চান তারা মার্কেট ভিজিট করতে পারেন। তবে মার্কেটে অনেক সময় বেশি দাম চাওয়া হয় বা কপি পণ্য গছিয়ে দেওয়ার ভয় থাকে।
তাই ঝামেলা এড়িয়ে সঠিক দামে জেনুইন প্রোডাক্ট পেতে Munfanmart.com হতে পারে আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী।
ঘড়ির যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ টিপস –
একটি ভালো ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কিনলেই দায়িত্ব শেষ নয়, এর সঠিক যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। সঠিক যত্ন নিলে আপনার শখের ঘড়িটি বছরের পর বছর নতুনের মতো চকচকে থাকবে।
- লবণ পানি থেকে সাবধান: সাগরে সাঁতার কাটার পর অবশ্যই ঘড়িটি সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। লবণের কণা ঘড়ির মেটাল বডি বা রাবারের সিল নষ্ট করে ফেলতে পারে।
- গরম পানি এড়িয়ে চলা: ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি পড়ে কখনোই গরম পানিতে গোসল বা সনা বাথ নেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত তাপ ঘড়ির ভেতরের রাবার গ্যাসকেট প্রসারিত করে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- ব্যাটারি পরিবর্তন: লোকাল দোকান থেকে ব্যাটারি পরিবর্তন করলে অনেক সময় তারা ওয়াটারপ্রুফ সিল ঠিকমতো লাগাতে পারে না। তাই ব্যাটারি পরিবর্তনের সময় দক্ষ মেকানিক বা ভালো সার্ভিস সেন্টার থেকে কাজ করানো উচিত।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs) –
প্রশ্ন ১: ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কি সুইমিংয়ে ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: সব ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি সুইমিংয়ের জন্য নয়। শুধুমাত্র ১০ ATM বা তার বেশি রেটিংযুক্ত ঘড়ি পড়ে নিরাপদে সাঁতার কাটা যায়।
প্রশ্ন ২. কত ATM হলে বৃষ্টি নিরাপদ?
উত্তর: ৩ ATM বা ৩০ মিটার ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট ঘড়ি বৃষ্টির পানি বা সাধারণ ঝাপটা থেকে নিরাপদ।
প্রশ্ন ৩. কম দামের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কি ভালো?
উত্তর: হ্যাঁ, SKMEI এর মতো কিছু ব্র্যান্ড কম দামে বেশ ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি অফার করে। তবে খুব কম দামি নন-ব্র্যান্ডেড ঘড়ি পানিতে না ভেজানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রশ্ন ৪. কাপল ঘড়ি কি ওয়াটারপ্রুফ হয়?
উত্তর: অবশ্যই, এখন OLEVS বা NAVIFORCE সহ অনেক ব্র্যান্ডের ওয়াটারপ্রুফ couple ঘড়ি সেট পাওয়া যায়। এগুলো গিফট হিসেবে দেওয়ার জন্য এবং নিজেদের ব্যবহারের জন্য খুবই চমৎকার।
প্রশ্ন ৫. বাংলাদেশে আসল ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কোথায় পাব?
উত্তর: আপনি munfanmart.com এ ভিজিট করে ১০০% অরিজিনাল এবং ওয়ারেন্টিযুক্ত ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি কিনতে পারেন।
শেষ কথা –
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের দেশের আবহাওয়ায় একটি ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি থাকাটা বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। আপনি ছেলে বা মেয়ে যেই হোন না কেন, আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই একটি ঘড়ি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ছেলেদের ও মেয়েদের ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ির দাম এখন হাতের নাগালে, তাই সাধারণ ঘড়ি বাদ দিয়ে ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাজেট, ডিজাইন এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সঠিক ব্র্যান্ডের ঘড়িটি নির্বাচন করুন। আর জেনুইন পণ্যের নিশ্চয়তা পেতে এবং ঘরে বসে ঝামেলাহীন শপিং করতে আজই ভিজিট করুন Munfanmart.com। আপনার সময়ের সঠিক সঙ্গী হোক একটি টেকসই ও স্টাইলিশ ওয়াটারপ্রুফ ঘড়ি।